কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিটিভির সাংবাদিক পরিচয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থ দাবী করায় প্রতারক চক্রের ৩সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে উপজেলার নবিয়াবাদ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রবিবার দুপুরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রামাণ্য চিত্র করতে নবিয়াবাদ উচ্চ বিদ্যালয় যায় চক্রটি। এসময় অনুষ্ঠানের জন্য তারা টাকা দাবী করে। কর্তৃপক্ষ তাদের আচরন সন্দেহজনক হওয়ায় পরিচয়পত্র চায়, তারা যথাযথ পরিচয় দিতে না পারলে তাদেরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
নবিয়াবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়া ভূঁইয়া জানান, গত ১৭ই আগষ্ট মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আলী জিন্নাহ স্যার আমাদেরকে মেইলে একটি চিঠি প্রেরন করেন। চিঠিতে উল্লেখ ছিলো বিদ্যালয়ের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের উপর ২৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ নির্মানে যেন সহযোগিতা করা হয়। শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা মোতাবেক তাদের কাজ করার অনুমতি দেই। এসময় বিদ্যালয়ের উন্নয়নে নানা সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দেয় তারা। তাদের আচরন সন্দেহজনক হওয়ায় পরিচয়পত্র চেয়ে বুঝতে পারি এটি একটি প্রতারক চক্র। তাই তাদের আটক করে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় পুলিশে সোপর্দ করি।
জানা যায়, গত ১৭ আগষ্ট বিটিভির সাংবাদিক পরিচয়ে ৩ সদস্যের একটি দল দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আলী জিন্নাহ’র সাথে দেখা করেন। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানায় তারা বিটিভির জন্য বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কর্মকান্ডের উপর ২৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ নির্মানে সহযোগিতা চান। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাৎক্ষনিক একটি চিঠি লিখে ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১১টি কলেজ ও ৩০টি মাদ্রাসায় ইমেইলে চিটি পাঠিয়ে দেন। চক্রটি শনিবার কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় যেয়ে কর্তৃপক্ষের সাক্ষাৎকার গ্রহন করে প্রামাণ্য চিত্রের নামে টাকা হাতিয়ে নেয়।
দেবিদ্বার মফিজ উদ্দিন পাইলট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, যেহেতু আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তার চিঠি আছে, সেহেতু কোন সন্দেহ করি নাই। ওরা আমার নিকট বেশী টাকা চায়নি মাত্র ৫ হাজার টাকা চাওয়ায় আমি ২ হাজার টাকা দেই।
দেবিদ্বার ইসলামিয়া ফাজির ডিগ্রী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ আলাউদ্দিন জানান, মাদ্রাসায় আসার পর ওদের পরিচয় দিলে কার্যক্রম চালাবার অনুমতি দেই। কারন শিক্ষা কর্মকর্তার চিঠি আছে যাতে লিখা আছে তাদের সার্বিক সহযোগীতা করার। তারা টাকা চাইলে বলি ক্যাশ টাকা নাই, বিকাশ নম্বর দেন কাল টাকা দিয়ে দেব। ওরা বিকাশ নাম্বর পরে দেবে বলে চলে যায়। আজ শুনলাম ওরা থানা হাজতে। আমার আর টাকা দেয়া হলনা।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আলী জিন্নাহ জানান, গত ১৭ইআগষ্ট শিক্ষাঙ্গনের উন্নয়ন মূলক "বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ" নামক প্রামাণ্য অনুষ্ঠানের সহযোগিতা চেয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রাম প্লানার শেখ নাদিম হোসেন নিলয় ও তার সহযোগীরা আসলে তাদের দেয়া চিঠিটি আমি উপজেলার সকল মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেইলে করে দেই। কিন্তু আমার কথা ছাড়াই তারা বিদ্যালয়ে প্রোগ্রাম শুরু করেছে। জানতে পারলাম এরা একটি প্রতারক চক্র। তাই এবিষয ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলেছি এবং নতুন করে একটি নোটিশ উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয প্রেরন করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আশিক উন-নবী তালুকদার বলেন, প্রামাণ্যচিত্র করতে সরল বিশ্বাসে হয়তোবা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অনুমতি দিয়েছেন। আজ যখন জানতে পারলাম তারা প্রতারক চক্রের সদস্য তাৎক্ষণিক ভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয এবং শিক্ষা কর্মকর্তাও নতুন করে একটি সাবধানতা মূলক বিজ্ঞপ্তি সকল প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন, মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার হাজীগাও গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শেখ নাদীম হোসেন নিলয় (২৪), ঢাকা জেলার ওয়ারী থানার গুপিবাগ এলাকার আকবর হোসেনের ছেলে সানোয়ার হোসেন (৩৬), ঢাকা জেলার ডেমরা থানার কোনাপাড়া এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে সাজেদুল ইসলাম (২১)। জানাযায় এর আগে ২০২২সালের ১২মে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেনদী দাখিল মাদ্রাসায় একই রকম প্রতারনা করতে গিয়ে এই চক্রের নাদিম হোসেন নিলয়কে আটক হয়।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ কমল কৃষ্ণ ধর জানান, নবিয়াবাদ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিটিভির পরিচয় দেওয়া ৩ প্রতারকে আটক করার সংবাদ দিলে আমরা তাদের থানায় নিয়ে আসি। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, রাতেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন